
মন হরণ
---------------------------
প্রেরণা বড়াল
ও কাকি দরজা খোল,শিগগির দরজা খোল।
আসছি, সাড়া দেয় নির্মলা। ভীতর ঘর থেকে বৈঠক ঘরে আসাতে আসতে সুনতে পায় শিবু,গোপাল, আরো অনেকে চেঁচাচ্ছে।
"পারেও বটে বাচ্চারা।"
ওর একমাত্র ছেলে নীলমণিকে নিয়ে এই ঘন্টা খানেক হলো খেলতে বেরিয়েছিল।
এই ফাঁকে ঘরের কাজ গুছিয়ে সবে রান্না করতে বসেছে। আজ রবিবার, অফিস ছুটির দিন। মা ছেলে বেশ জমিয়ে খাবার দিন। দুই কুলে ওই ছেলে ছাড়া আর কেউই নেই নির্মলার। ছোট বেলায় মাকে হারিয়েছে আর বিয়ের পর বাবাকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল তার। শাশুড়ি মা খুবই ভালোবাসতেন ওকে। কিন্তু কপাল খারাপ, তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতেই জীবনে কঠিন সময়টা দেখতে হল তাকে। মনহরণ আর নির্মলা, ওরা স্বামি স্ত্রী সে দিন দুজনেই খুশি খুশি অফিসে বেরিয়ে গিয়েছিল ছেলেকে আয়ার কাছে রেখে। রোজ যেমন যায়। কিন্তু ফিরে এসেছিল ও একা । মনহরণ আর কোন দিন ফিরে আসে নাই। অবশ্য শোবার ঘরে বালিশের নিচে ওর একটা চিঠি পেয়েছিল। তাতে লেখা ছিল "আমি গৃহী হতে চাইনি কিন্তু মায়েরও অবাধ্য হতে পারিনি। চেষ্টা করেছি তোমাকে ভালো রাখার। মা বেঁচে নেই, ছেলের ও তোমার জন্য ব্যাংকে কিছু টাকা জমা আছে।
আশা করি দায় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। ঈশ্বর তোমাদের মংগল করুন।"
সত্যি, যে মানুষটার ভালোবাসায় ও পরিপূর্ণ ছিল, যার ভালবাসাতে এতটুকুও কমি ছিল না। সেই মানুষটি, কি করে ওদের ছেড়ে চলে যেতে পারল, আজ ও বুঝে উঠতে পারে নি নির্মলা।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে, বৈঠকে এসে দরজা খুলতে না খুলতেই হুড়মুড় করে সবাই ঘরে ঢুকে পড়ল। এক বাবা গোছের লোক নীলমণিকে দিবানের উপর শুইয়ে দিল।
"কি হয়েছে ওর? কথা কইছে না কেন ? ওকে কোলে করে কেন আনতে হল। "
না আর মাথা কাজ করছে না নির্মলার। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। বাচ্চাদের কথাগুলি মনে হচ্ছে দিগন্তের পার থেকে ভেসে আসছে। ওরা বলছে "আজ এই সাধু বাবার জন্য নীলমণি বেঁচে আছে। আমাদের খেলার বলটি পানা পুকুরে পড়ে, আর ওটাকে আনতে গিয়ে, নীলমণি পুকুরে পড়ে ডুবে যাচ্ছিল। "
নির্মলা যেন অসাড় । হঠাৎ সাধুবাবার কথায় যেন বিদ্যুতের ঝটকা লাগল। হ্যাঁ ও পরিষ্কার সুনতে পেল। উনি যাবার আগে বললেন, 'কোন ভয় নেই, আগামীতে একটু সাবধানে থেকো।' এই গলাটা তো ওর চেনা মনে হচ্ছে। কে এই সাধু? ওনার চুলদাড়ি না থাকলে কেমন দেখাত? কে ইনি? কে?কে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন